deshbangla71news.com
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্ধশত বছরে ভয়াবহ অপারেশন সার্চলাইট: জাতীয় গণহত্যা দিবস


হযরত আলী মোবারক (স্টাফ রিপোর্টার):

২৫ শে মার্চ, ১৯৭১ হঠাৎ করে থেমে গেল ঢাকাসহ গোটা পূর্ব পাকিস্তান। যেন নেমে এলো কবরের নিস্তব্ধতা, আর দানবের অশুভ শক্তির
পদভারে কাঁপছে পুরোদেশ। মানুষের রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল বাংলার মাটি। গন্ধ মিলিয়ে গেল হাসনাহেনার। চার দিকে শুধু রক্তের গন্ধ, বাঁচার জন্যে নারী-পুরুষের আকুতি। তবুও কোনো কিছুতেই পাকিস্তানি দানব ,পশুশক্তির সৈন্যদের মন গলে না। ঘরে ঘরে চলে নির্বিচারে বর্বর হত্যাকান্ড। মনে আছে কী কারো সেই কালো রাতটির কথা?

 

আজ সেই ২৫ শে মার্চের কালোরাত।যে রাতটি বাঙ্গলীর জীবনে এক দগ দগে গা। যে গা ইচ্ছে করলেও কোন দিন মুছে ফেলা যাবেনা। রাত ১ টায় শুরু হয় পাকবাহিনীর বরর্বরচিত ও নিষ্ঠুরতম হত্যাকান্ড। ইতিহাসের এই নিষ্টুরম হত্যাকান্ডের নাম ”অপারেশন সার্চলাইট” যাকে জাতীয় গণহত্যা দিবসও বলা হয়। এই ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করতে ঢাকায় ডেকে আনা হয় ”বেলুচিস্তানের কসাই ” খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান কে। বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আলোচনা ছিল একটি শঠতা , সময়ক্ষেপন মাত্র। তা না হলে আলোচনার ফলাফল জানার জন্য যখন উদগ্রীব সারা বিশ্ববাসী তখন চোরের মত পালিয়ে গেল কেন ইয়াহিয়া?

রাতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র জনতার উপর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। সারা দেশের স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালত, ঘর-বাড়ী ও অন্যান্য বিভিন্ন স্থানে এদিন ঘুমন্ত বাঙালীর উপর নির্মম হত্যাকান্ড চালায় পাক হানাদার বাহিনী। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইনের মতে, এই রাতে প্রায় ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল এবং গ্রেফতার করা হয়েছিল আরো প্রায় ৩০০০ মানুষকে।

কাপুরুষোচিত ক্রেকডাউনের পর পরই বাঙ্গলীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বত্রিশ নম্বরের বাড়ী থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা
করেন। এই দিনেই বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩২ নম্বর বাড়ীর সামনে আগত জনতার উদ্দ্যেশ্যে বলেন, ”বিশ্বের কোনো শক্তিই পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবীকে নস্যাৎ করতে পারবে না ”, তিনি আরো বলেছেন, “জনতার দাবীকে শক্তির দাপটে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় আমরা তা কোনো ভাবেই মেনে নিবনা বরং আমরা তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিব।”

 

বঙ্গবন্ধুর ডাকে উজ্জীবিত বাঙ্গালী ২৫শে মার্চের পর নতুন করে উজ্জীবিত হয়, মনের মধ্যে সৃষ্টি হয় স্বাধীনতার তীব্র পাওয়া। প্রস্তুত হয় পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংস
হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেয়ার এক নতুন পথচলা, ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং দীর্ঘ নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বহু কষ্টে অর্জিত হয় আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা, সেই সাথে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় এক নতুন রাষ্ট্র, আমাদের সকলের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ।


Related posts

মহানবী (সা.)-কে অবমাননার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

deshbangla71news.com

পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের পদ বেড়ে তিনগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সি.আর.বি তে বসন্ত উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক