deshbangla71news.com
  • Home
  • সম্পাদকীয়
  • ট্রেনে হিজরাদের চাঁদাবাজি! জনদূর্ভোগ চরমে! রেল পুলিশ নিরব! সমাধান?
সম্পাদকীয়

ট্রেনে হিজরাদের চাঁদাবাজি! জনদূর্ভোগ চরমে! রেল পুলিশ নিরব! সমাধান?


রিপোর্ট করতে আর মন থেকে ইচ্ছে হয় না। সমাজের অনিয়মগুলো তুলে ধরলে কয়েকদিনের জন্য তা বন্ধ হয়, বড়জোর মাসখানেক। আজও নীরব দর্শক-ই হয়ে থাকতাম। তবে চোখের সামনে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যার দৌলতে রিপোর্ট না লিখলে অধর্ম হবে। ঘটনা টা দিয়ে শেষ করব, তবে তার আগের পরিবেশ টা একটু বলা যাক—

বলা যায় শখের বশেই ট্রেনে যাত্রা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর এক্সপ্রেসে। রাত ৯.২০ এ কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছাড়লো। ট্রেনের যাত্রায় মজা উপভোগ করতে হলে নাকি দ্বিতীয় ক্লাসের বগি তে উঠতে হয়। তাই সেখানেই বসলাম। ট্রেনের গতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। সাদা পোশাকধারী একজন টিকিট চেক করলো। সব ঠিকঠাকই ছিল। হাতের বইটা বুকের উপরে থাকা অবস্থায় কখন যে ঘুম চলে আসছিল ঠিক মনে নেই। হঠাৎ সজোরে একটি ধাক্কা। কোন এক শক্ত হাত আমার স্বপ্নের জগত কে ভেঙে চূর্ণ করে দিয়েছে।চোখের পাতা খুলতেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিন-চারজন হিজরা।সবিনয়ে বললাম কি হয়েছে? ১০ টাকা দে, তাড়াতাড়ি। বললাম কেন? তারপর শুরু হল গালাগালি। হট্টগোল। নোংরা আর বিশ্রী ভাষা গুলো মনে পড়লো এখনো লজ্জা পাচ্ছি। নিজের সম্মান বাঁচাতে মানিব্যাগ বের করলাম। বললাম ভাংতি নেই। তারা তো রেগেমেগে আগুন। কিন্তু আমার কাছে সত্যিই ভাংতি ছিল না।

তারপর একজন ভদ্র হিজরা এগিয়ে এলেন, বললেন টাকা দিতে। তারপর তিনি ৫০০ টাকার কড়কড়ে নোটটি নিয়ে ৪৯০ টাকা ফিরিয়ে দিলেন। যাক বাবা, ভাগ্যিস ১০ টাকাই রাখলো। আমি নিজেকে ভাগ্যবান ভাবা শুরু করলাম। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে অনুসন্ধানী চোখ টা খুলে ফেললাম। প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অন্তর যে রেলওয়ে পুলিশদের দেখছিলাম তারা হঠাৎ কোথায় গেল? তারা কেউ নেই ক্যান? হিজরা আসার পর থেকেই তারা উদাও। বোধহয় সামান্য চা খেতে খাবারের বগিতে সবাই একসাথে হয়েছিল। এদিকে তারই সুযোগ নিয়ে বাচ্চাসহ সবার থেকে হিজরা-রা ১০ টাকা প্রতিজন করে নিয়ে নিল।

এবার ঘটনায় আসা যাক- আমার ৪ সীট সামনে একজন ভদ্র মহিলা বসা ছিলেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, উচ্চ বংশীয়। তবে বোধহয় করোনা বা যেকোন কারণে অভাবে দিন কাটছে। সাথে থাকা ছোট্ট মেয়ে টা চিপসের প্যাকেট দেখে চেয়েছিল দেয় নি। তার চোখের দিকে তাকায়ে বোঝা যাচ্ছিল মায়ের কষ্ট টা। হিজরা তার থেকেও ২০ টাকা জোর করে নিয়ে নিল। আমড়া ওয়ালা এসেছে। মেয়ে টা এবার চেয়েই ক্ষান্ত হয় নি, কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমড়া খাবে। মায়া হল। সীট থেকে উঠে গিয়ে কিনে দিলাম। মা বাঁধা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন মায়ের বাঁধা মানার সময় নাই। ধীরে সুস্থে পুরো আমড়া টা শেষ করলো। আন্টির থেকে সবটা শুনলাম। আংকেলের চাকরির নেই। তাই কুমিল্লা গ্রামের বাড়ি চলে যাচ্ছে। টাকা নেই বলে গ্রামের বাড়ি পাঠাতেও পারছে না, আংকেল। তাই আংকেল কে লুকিয়ে জমানো টাকা দিয়ে রওনা দিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে। আন্টি সরাসরি এবার বলেই ফেললো, তার কাছে টিকিট কেনার পর ৫০ টাকা অবশিষ্ট ছিল। ৩০ টাকা লাগবে স্টেশন থেকে গ্রামের বাড়িতে লোকাল সিএনজি তে যেতে। ২০ টাকা হিজরা নেয়ার পর,তার কিছু কেনার সামর্থ্য ছিল না। তিনি বললেন, যত বিপদ, সব আমাদের। মধ্যবিত্তের ঘরে জন্ম নেয়ার চেয়ে গরীবের ঘরে জন্ম নেয়া অনেক ভালো। আন্টির শুদ্ধ কথাই তার শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। কথাগুলো বার বার কানে বাজছে।

ট্রেণে সচেতন নাগরিকও কম ছিল না। শিক্ষিত যারা তারা বললো- এসব রীতি হয়ে গেছে, আপনার কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আপনি বরং এগুলো মেনে নিন।
গ্রাম্য ভাষায় অনেকে বললো- আন্নে কি ভাবেন, পুলিশের কি এ টাহায় ভাগ নাই, ওরাই তো ওগোরে সুযোগ করে দেয়। আন্নে ভাবেন কহনও দেখছেন প্রথম ক্লাসে হিজরা ঢুকছে? তাইলে?

চায়ের কাপ নিয়ে টং দোকানে বসে যারা টকশো করেন তারা বললে- বাবা, এসব ভেবে লাভ নাই। আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছি। দেশে এরকমই হচ্ছে। সাধারণ মানুষও বিরক্ত। দেখলে না, তাজা যুবকরাও কোন প্রতিবাদ করলো না। সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যাও নিজের সীটে বসে পড়।

আমি আশা ছাড়তে পারি না। এটা তো সে-ইদেশ, যে নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছে, আমরা তো সে জাতি, যারা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। তাহলে কেন আমরা আমাদের দেশের নাগরিক হিজরাদের দায়িত্ব নিতে পারবো না। তারা কেন সাধারণ মানুষের বিরক্তের কারণ হবে?

আমি এ বিষয়ে কাউকে দোষারোপ করছি না, হিজরাদেরও প্রয়োজন আছে। আমিও শহরে থাকলে তাদের যথাসাধ্য সাহায্য করি। কিন্তু যাত্রাপথে, ট্রেণে? আমার খারাপ লেগেছে ৩ টা বিষয়ে-
১. বিভিন্ন দোকান ও সমাজ থেকে হিজরা-রা অর্থ নেয় ঠিক আছে, তবে তা কোন ফিক্সিড থাকে না। তাহলে কেন ট্রেণে চাঁদাবাজির মত করে ফিক্সিড টাকা নেয়া হবে?

২. আমি রেল পুলিশের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। তারা ৫ মিনিট পর পর এসেই আমার মোবাইলের বিষয়ে সাবধান করছিল। কিন্তু তারা তখন কোথায় ছিল? আর যদি তারা ফাস্ট ক্লাস কেবিনে হিজরা ঢোকা অফ করতে পারে, তাহলে ট্রণে উঠা কেন অফ করতে পারবে না?

৩. হিজরা কেন আজীবন এভাবে উপার্জন করে যাবে? সরকার চাইলে কি তাদের কোন ভালো কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারে না?

ভুল বা অনাধিকার চর্চা করলে ক্ষমা করবেন।


Related posts

চেয়ার টা আপনাকে বড্ড মিস করবে

Fao Limited

.

deshbangla71news.com

রোগীদের আশ্রয়স্থল চমেক এর ইয়েলো জোনের ইনচার্জ শাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক