deshbangla71news.com
  • Home
  • চট্টগ্রাম
  • মাত্র ১০ ঘন্টায় কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করল চসিক
চট্টগ্রাম

মাত্র ১০ ঘন্টায় কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করল চসিক


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম নগরীতে টানা ১০ ঘণ্টা কার্যক্রম চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মেট্রিক টন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সংস্থাটির দাবি, এ সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্যের ৯০ শতাংশ অপসারণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তবে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে অলিগলিতে এখনো বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে সেগুলো অপসারণের কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য প্রায় অপসারণ করে ফেলার পর এখন তারা সড়কে যাতে কেউ চামড়া ফেলে যেতে না পারে এবং চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ১০ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য শতভাগ অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বুধবার (২১ জুলাই) দুপুরে মেয়র রেজাউল নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখেন।

বিজ্ঞাপন
নগরীর দামপাড়ায় পরিদর্শন শুরুর সময় মেয়র রেজাউল সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে সময় বেঁধে দিয়েছি অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই আশা করি ৯৮ ভাগ বর্জ্য আমরা অপসারণ করে ফেলতে পারব।

আগামীকালও কিছু কোরবানি হবে। আগামীকালের জন্যও একই ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, সে ব্যাপারে শতভাগ সফল হব বলে আশা করি।’

১০ ঘণ্টায় ৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের দাবি চসিক’র

বিজ্ঞাপন
নগরীতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর মোবারক আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে কাজ শুরু করে আমরা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ৯০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করেছি।

তবে প্রথম দুইঘণ্টা আমরা শুধুমাত্র বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি থেকে খড়কুটো, গরুর মলমূত্র সেগুলো অপসারণ করেছি। সকাল ১১টা থেকে মূল কাজ শুরু হয়েছে। কারণ জবাই করা পশু প্রসেস হয়ে বর্জ্য পেতে কিছুটা সময় লাগে।

এরপর থেকে আমাদের কর্মীরা টানা কাজ করছেন। সমস্যা হচ্ছে— বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে সন্ধ্যার পরও গরুর কান, মাথা ও লেজের অংশ ফেলা হচ্ছে। সেগুলো অপসারণে আমাদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে রাত ১০টার মধ্যে শতভাগ করে ফেলতে পারব বলে আশা করি।’

সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরীর ২৩টি ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলররা তাদের এলাকাকে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে অবহিত করেছেন।

মোবারক আলী বলেন, ‘ওনাদের দাবি আমরা গ্রহণ করছি না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি এলাকায় ভিজিট করে মতামত দেওয়ার পর সেটা আমরা গ্রহণ করব।’

বিজ্ঞাপন
চসিক’র ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী সারাবাংলাকে বলেন, ‘দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যেই আমরা বর্জ্য অপসারণ করে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিয়েছি।

এরপরও অলিগলিতে যেখানে বর্জ্য থাকার খবর পাচ্ছি, সেখানে গিয়ে পরিষ্কার করেছি। সন্ধ্যার পর বলতে পারি, আমার এলাকা পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত।’

বুধবার বিকেলে নগরীর টাইগার পাস, কদমতলী, আমবাগান, চৌমুহনী এলাকার মূল সড়কগুলো ঘুরে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়নি।

সড়কগুলো অনেকটাই পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে। কিছু এলাকায় গলির ভেতরে রাস্তায় গরুর মাথার বিচ্ছিন্ন অংশবিশেষ, জিহ্বার অংশ, রক্ত, লেজের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রক্তমাখা চাটাইও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে একইসঙ্গে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সেসব বজ্র্য অপসারণে কাজ করতেও দেখা গেছে।’

বিজ্ঞাপন
১০ ঘণ্টায় ৬ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের দাবি চসিক’র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, ৩৩০টি গাড়ি নিয়ে তিন হাজার ৬০০ জন স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মী বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন।

তদারকিতে আছেন ১১০ জন কর্মকর্তা। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নগরীকে চারটি জোনে ভাগ করে চারজন কাউন্সিলর মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আর পুরো নগরীতে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দায়িত্বে আছেন কাউন্সিলর মোবারক আলী।

কাউন্সিলর মোবারক আলী জানিয়েছেন, দৈনিক আড়াই হাজার মেট্রিক টন বর্জ্যসহ এবার কোরবানির দিনে নগরী থেকে সাড়ে সাত হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সিটি করপোরেশন।

বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ছয় হাজার মেট্রিকটনের মতো বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। নগরীর উত্তর-দক্ষিণের ২২টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হয়েছে নগরীর আরেফিন নগরের আবর্জনাগারে। পতেঙ্গা-বন্দর এলাকার বাকি ১৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হয়েছে হালিশহরে আবর্জনাগারে।

‘লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণের সব প্রস্তুতি আমাদের ছিল। তবে তত বর্জ্য পাওয়া যায়নি। এর একটা কারণ হচ্ছে— করোনার কারণে কোরবানি কম হয়েছে।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে— আমরা দুইদিন আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় গরুর খড়কুটো, মলমূত্র অপসারণের কাজ শুরু করেছিলাম।

নগরীতে সে অর্থে সন্ধ্যার পর আর কোরবানির বর্জ্য তেমন নেই। শুধু বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে যেসব বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, সেগুলো অপসারণে কাজ চলছে’— বলেন কাউন্সিলর মোবারক আলী

এদিকে নগরীর যেসব এলাকায় চামড়া কেনাবেচা ও সংরক্ষণ করা হয় সেসব এলাকার কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক লাখ চামড়া নগরীতে এসেছে।

এবার চামড়ার দাম কম। ২০০ টাকার ওপরে আড়তদার চামড়ার দাম দিতে চাচ্ছে না। শেষপর্যন্ত বিক্রি করতে না পেরে চামড়াগুলো যাতে রাস্তায় ফেলে যেতে না পারে সেজন্য আমাদের কাউন্সিলররা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক আছেন।

আমরা বলছি যে, চামড়াগুলো ফেলে যাওয়া যাবে না। সেগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।’


Related posts

চেয়ার টা আপনাকে বড্ড মিস করবে

Fao Limited

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ কমিটিতে চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের হার ১৭ শতাংশে