deshbangla71news.com
  • Home
  • সম্পাদকীয়
  • রোগীদের আশ্রয়স্থল চমেক এর ইয়েলো জোনের ইনচার্জ শাকিব
সম্পাদকীয়

রোগীদের আশ্রয়স্থল চমেক এর ইয়েলো জোনের ইনচার্জ শাকিব


সম্পাদকীয়ঃ বন্ধুর বাবা বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। করোনার সকল উপসর্গই তার বিদ্যমান। কালক্ষেপণ না করে চট্টগ্রাম মেডিকেলের পথে রওনা হলাম। নিজের পরিচয় গোপন করেই চট্টগ্রাম মেডিকেলের জুরুরি বিভাগের সামনে।

জুরুরি বিভাগে একের পর এক বকশিস নেয়াটা তো সবারই জানা। তাও নিজ অভিজ্ঞতাটুকু লাইভে শেয়ার করেছিলাম। তারপর পাঠানো হয় চমেক এর ১৯ নং ওয়ার্ডে তথা করোনা উপসর্গধারীদের জন্য নির্ধারিত ইয়েলো জোনে। জুরুরি বিভাগে বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের সাংবাদিকতার পরিচয় প্রকাশ করলেও ইয়েলো জোনে মুখে কুলে পেতে রইলাম। ঘুরে ফিরে দেখছি।রোগীর আত্মীয় সেজে। ইনচার্জ কোথায়? সরকারি মেডিকেল। নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছেন। না হয় কোথাও খোশগল্পে মেতে আছেন।
একজন লোক প্রতিটি বেডের পাশে যেয়ে কিছু মোটিভেশনাল কথা সকল রোগীকে শোনাচ্ছেন। সম্বোধন করছেন, মা-বাবা ডাকে। এমনভাবে তাদের জড়িয়ে ধরছেন যেন মমতার শেষ নেই। প্রথমে ভেবেছিলাম ওনার ছেলে। পরে পুরো ওয়ার্ড ঘুরে এসে দেখি আবার অন্য এক বেডে। ওয়ার্ড বয় হতে পারে।তবুও আমার নজরে সে এসেছেন অন্য কারণে। ওয়ার্ড বয় হলে পিপিই কই? শুধু সার্জিক্যাল একটা মাস্ক পড়ে ডিউটি করছেন। ঠিক ডিউটি নয়, ডিউটির চেয়ে একটু বেশিই। সমাজসেবক নাকি? কৌতূহল নিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ওনি কে? উত্তর বললো, ওনিই আমাদের ইনচার্জ।

বলছিলাম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গধারীদের জন্য নির্ধারিত ইয়েলো জোনের (১৯ নং ওয়ার্ড) নার্স ইনচার্জ শাকিবুল হাসান-এর কথা। বেশ ভালো লাগল,ব্যাপারটা। নিজের সব পরিচয় আত্মগোপন করে একজন সাধারণ মানুষ হয়ে তার কাছে এগিয়ে গেলাম, নিজের সকল সমস্যাগুলো একে একে বললাম। মিষ্টিভাষী লোকটা আশ্বস্ত করলেন, আপনি আপনার বন্ধুর বাবার জন্য যা করতে বলছেন, আমি তা আমার নিজের জেঠা মনে করেই করব।

এটা কেমন উত্তর? নিজের বাবা- মায়ের মত করব বলতে পারত। কিন্তু জেঠা? পরে বিষয় টা খুলে বললেন। সাথে হাস্যজ্জ্বল মুখটা হঠাৎ মলিন হয়ে গেল। ঘটনার এক পর্যায় তার চোখ,পানিতে ছলছল করে উঠেছিল৷

তার জেঠা অর্থাৎ চাচার অনুপ্রেরণায় তিনি নার্সিং জগতে প্রবেশ করেন। মানুষের সেবায় তাকে নিয়োজিত থাকতে নির্দেশনা সবসময় প্রদান করতেন। সেই চাচার একটাই চাওয়া ছিল, তার ভাতিজা অর্থাৎ শাকিবুল হাসান তার জানাজা পড়াতে হবে। কিন্তু করোনা ইউনিটে ডিউটির কারণে চাচার মৃত্যুর খবর শুনেও যাওয়া হয়নি তার। জানাজা তো দূরের কথা, শেষ দেখাও দেখা হয় নি,চাচাকে। তারপর থেকে যেকোন রোগী আসলেই তারমধ্যে নিজের চাচাকে খুজেঁ পান বলে জানান তিনি৷ সাধারণ একজন মানুষকে এতটা সময় দিচ্ছেন ভেবে আমি কল্পনার জগতে ডুব দিব, এমন সময়ে দরজায়, স্যার, ২৩ নাম্বার বেডের রোগীটাকে আপনাকে ডাকছেন। কোনমতে আমার থেকে বিদায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ছুটলেন ওয়ার্ডের দিকে। যেন এক যোদ্ধা তার যুদ্ধে যাচ্ছেন।

সাধারণ একজন রোগীর আত্মীয় এর কাছে, চলে যাওয়া অর্থাৎ শাকিবুল হাসান সম্পর্কে জানতে চাইলাম। বললেন, ওনি তো একজন মোটিভেশনাল স্পীকার। আমার বাবাকে অর্ধেক সুস্থ ওনি কথার মাধ্যমেই করে দিয়েছেন।

প্রায় মাসখানেক নিজের কাজের ব্যস্ততায় তাকে নিয়ে লিখব লিখব করে লেখা হয়ে উঠে নি। বন্ধুকে বললাম, লিখব ওনাকে নিয়ে?
সেই বন্ধু বলল, তোর লেখায় একটা লাইন লিখিছ, বাংলাদেশের সব মেডিকেলে যেন শাকিব ভাইয়ের মত ইনচার্জ থাকে।

মিষ্টিভাষী লোকটা জানবেন কিনা জানি না, তাকে নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করেছিলাম। যদি দেখেন, তার জন্য বলছি, আপনার জন্য অনেক শ্রদ্ধা রইল। আপনার জন্য এ তো আমার সামান্য আয়োজন। আপনাকে ভালোবেসে ও সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, স্যালুট স্যার!


Related posts

.

deshbangla71news.com

চসিকের বাজেট প্রস্তাবনা-২০২১-২০২২: প্রজন্মের জন্য স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দের নগর গড়ার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনীর হাতের ছোঁয়ায় বদলে গেছে সাজেক

deshbangla71news.com