deshbangla71news.com
  • Home
  • জাতীয়
  • ৭ ই জুন; বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ও ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস
জাতীয়

৭ ই জুন; বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ও ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
আওয়ামী লীগ এর পক্ষ থেকে ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত, সম্মিলিত বিরোধী দল সমূহের কনভেনশনে বাঙালির মুক্তি সনদ খ্যাত ছয় দফা উত্থাপন করে তার বিষয় অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য ছিল- পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল বা যৌথরাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেশন বা যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

ছয় দফা কোনো রাতারাতি বা হঠাৎ কর্মসূচি ছিল না। এর প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘদিনের। ‘৫২’ এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ‘৫৪’ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ‘৬৬ এর ছয় দফার মূল ধারা তৈরি হয়।

ছয় দফার দাবিগুলো ছিল এরকম:

১. পাকিস্তান একটি সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফেডারেশন হিসেবে গঠিত হবে।

২. ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারে থাকবে কেবল প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র। অন্যান্য বিষয় প্রদেশগুলোর হাতে থাকবে।

৩. প্রতিটি প্রদেশের জন্য পৃথক তবে অবাধে রূপান্তরযোগ্য মুদ্রা থাকবে। যদি একক মুদ্রা হয় তাহলে মুদ্রা হস্তান্তর রোধ করার উপায় থাকতে হবে।

৪. রাজস্ব থাকবে প্রদেশের হাতে।

৫. প্রতিটি প্রদেশের মুদ্রা আয়ের জন্য পৃথক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

৬. আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি প্রদেশকে মিলিশিয়া রাখার অনুমতি দিতে হবে ।

১৯৬৬ সালের ১৮,১৯,ও ২০ মার্চের আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সর্ব সম্মতিক্রমে এই ৬ দফা পাশ করা হয় । এর পর সারা দেশে ৬ দফার ব্যাপক প্রচার শুরু হয় । এরপর শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন করা। বঙ্গবন্ধুর বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং গ্রেফতারের প্রতিবাদে মে মাসে আওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায় ৭ জুন দেশ ব্যাপী হরতাল আহবান করা হয় । সেই হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নেতা মনু মিয়া সহ ১১ জন দলীয় নেতা কর্মী নিহত হয়েছিল । সেই দিন হতে ৭ই জুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে ।

৫ই ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন যে, “এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত করা হবে: একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে ‘বাংলা’ শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। ‘বাংলা’ শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ বদলে ‘বাংলাদেশ’ বলে ডাকা হবে।”

এই ঘোষণায় পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়ে এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয় তাঁকে।

কিন্তু ছাত্র যুবক কৃষক শ্রমিক জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

এরপর চলে যায় আরো বহু ঘটনা, বহু কাহিনী। স্বাধীনতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠা বাঙালিদের তীব্র আন্দোলন ও প্রতিবাদ দেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাঙালিদের উপর চালানো হয় পাকিস্তানিদের এক বর্বরোচিত হামলা। এরপর বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। বাঙালি একটি জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পায়, পায় জাতিরাষ্ট্র—স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মূলত ‘৬৬ সালের বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ছয় দফাই স্বাধীকার আন্দোলন হতে স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।


Related posts

মুক্তিযুদ্ধের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে : রণেশ মৈত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চারপাশে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের উদ্ভোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক