1. faolimited01753@gmail.com : Fao Limited : Fao Limited
  2. admin@deshbangla71news.com : deshbangla71news.com :
  3. artaimoon@gmail.com : AR Taimoon : AR Taimoon
  4. kazimdsazzadhasan@gmail.com : Kazi MD Sazzad Hasan : Kazi MD Sazzad Hasan
  5. partspermillion01@gmail.com : MD Rakib : MD Rakib
জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে অজানা কিছু তথ্য। - deshbangla71news.com
বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

জাস্টিন ট্রুডোকে নিয়ে অজানা কিছু তথ্য।

হযরত আলী মোবারক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

জাস্টিন পিয়ের জেমস ট্রুডো, জাস্টিন ট্রুডোর পুরো নাম। তিনি একজন কানাডীয় রাজনীতিবিদ।কানাডার ইতিহাসে অন্যতম সেরা এবং বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে কম বয়সী ২য় ও দেশটির ২৩ তম প্রধানমন্ত্রী। নিজ দেশের জনগণের জন্য তিনি যেন এক মানবতার দেয়াল। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত এই রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে বর্তমানে কানাডা পৃথিবীর অন্যতম সেরা শান্তিপূর্ণ দেশ।

জন্ম ও পূর্ব পুরুষঃ ১৯৭১ সালের ২০ শে জুলাই কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে এলিট ট্রুডো ও মার্গারেট সিনক্লেয়ার দম্পতির পরিবারে নতুন সদস্য বড়দিনে আসতে যাচ্ছে। সাথে সাথেই জুয়াড়িরা পার্লামেন্ট হিলে বাচ্চার সম্ভাব্য জন্মদিন নিয়ে নিয়ে বাজি ধরা শুরু করে দেয়। বড়দিনের দিন অটোয়া সিভিক হাসপাতালে স্থানীয় সময় ৯ টা বেজে ২৭ মিনিটে জাস্টিন ট্রুডো জন্মগ্রহণ করেন। সেই আমলের কানাডার অন্য সকল হাসপাতালের মতো বাচ্চা ডেলিভারির রুমে বাবাদের উপস্থিত থাকার নিয়ম ছিল না।কিন্তু মার্গারেট সিনক্লেয়ার এই নিয়মের বিরোধিতা করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ম পাল্টাতে বাধ্য হন। এরপর থেকে কানাডার অন্য হাসপাতাল গুলোতে উক্ত নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়।

ট্রুডো ছাড়াও এর আগে জন এ ম্যাকডোনাল্ডের কন্যা মার্গারেট ম্যারি থেডোরা ম্যাকডোনাল্ড (৮ ই ফেব্রুয়ারি, ১৮৬৯ – ২৮ শে জানুয়ারি,১৯০০) কানাডার প্রধানমন্ত্রী অফিসে জন্মগ্রহণ করেন। ট্রুডোর ছোট ভাই আলেক্সান্ডার ও মিচেল এর জন্মের সময়ও পিয়েরে ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিলেন।

১৯৭৭ সালের ২৭ শে মে ট্রুডোর পিতামাতা বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। পাঁচ বছর বয়স্ক ট্রুডো তখন বাবার অধীনে ছিলেন। এরপর একাধিকবার তার পিতামাতার পুনর্মিলনের গুজব ছড়িয়েছিল। তবে তার মায়ের আইনজীবী মাইকেল লেভাইন সুপ্রিম কোর্ট অব অন্টারিওতে ১৯৮৩ সালের ১৬ ই নভেম্বর ডিভোর্সের কাগজ পেশ করেন। একই বছর ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, পিয়েরে ট্রুডো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। অবশ্য শেষ অব্দি তার পিতামাতা ট্রুডোর প্রতি সম্মিলিত অধিকার পান। অন্যদিকে, জাস্টিন মা পাগল ছেলে ছিল। তাই ওকে খুব একটা সহজে সামলানো যেতো না। ট্রুডোর মায়ের দিক থেকে ২ জন সৎ ভাইবোন এবং তার পিতার দিক থেকে এক বোন অাছেন।

শিক্ষা জীবনঃ অটোয়াতে জন্ম নেওয়া ট্রুডো কলেজ জঁ-দ্য-ব্রেবফে পড়ালেখা করেন। ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এবং ১৯৯৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে।

রাজনৈতিক জীবনঃ তরুণ বয়স থেকে জাস্টিন ট্রুডো লিবারেল পার্টির সমর্থক ছিলেন। হাই স্কুলে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি কানাডীয়ান ফেডারেলিজমে অংশ নেন।

বাবার মৃত্যুর পর ২০০০ সাল থেকে ট্রুডো লিবারেল পার্টিতে আরো বেশি জড়িয়ে পড়েন। ২০০৩ সালের লিবারেল পার্টির লিডারশিপ কনভোকেশনে প্রধানমন্ত্রী জঁ শ্রেটিয়েন এর উদ্দেশ্যে একটি ট্রিবিউটে অলিম্পিয়ান শারমেইন ক্রুকের সাথে সহ-সঞ্চালনা করেন। ২০০৬ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টির হারের পর জাস্টিন ট্রুডো যুব রিনিউয়াল এর দায়িত্ব পান।

২০০৭ সালে লিবারেল পার্টির হয়ে মনোনয়নের নিমিত্তে জাস্টিন ট্রুডো মন্ট্রিল সিটির কাউন্সিলর ম্যারি ডেরোস ও ব্যাসিলো জরডানের মুখোমুখি হন। খুব সহজেই তিনি অবশ্য অন্য দু’জনকে হারিয়ে লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পান।

বিরোধী দল (২০০৮-২০১৫): ২০০৮ সালের ১৪ ই অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এর জন্য প্রায় ১ বছর ধরে জাস্টিন ট্রুডো প্রচারণা চালিয়ে অাসছিলেন।নির্বাচনে ট্রুডো জয়যুক্ত হন।তার জয়কে নিয়ে দ্যা গ্লোব এন্ড মেইল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক লিখেন, ‘ ট্রুডো আর অল্প সংখ্যক নতুন এমপিদের একজন যার মাঝে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর ছায়া দেখা যায়। ‘

উক্ত নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি সরকার গঠন করলে ট্রুডো বিরোধী দলীয় এমপি হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন।

লিবারেল পার্টির নেতৃত্বঃ ডায়োনের অবসরের পর ২০০৮ সালে লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণের সুযোগ জাস্টিন ট্রুডোর হাতে আসে। অন্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে তিনি লিবারেল পার্টির জনপ্রিয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি বরং ইগ্নাটিফ নেতা হিসেবে ২০০৮ সালে ডিসেম্বরে লিবারেল পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে লিবারেল পার্টির শোচনীয় অবস্থার পর ইগ্নাটিফ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তখন জাস্টিন ট্রুডো পুনরায় লিবারেল পার্টির অবশ্যম্ভাবী নেতা হিসেবে উঠে আসেন।

২০১৩ নির্বাচনের নেতৃত্বঃ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরেই একাধিক মাধ্যমে বলা হয় জাস্টিন ট্রুডো এবারের নির্বাচনে লিবারেল পার্টিকে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। যদিও তার যোগ্যতা নিয়ে সবসময় সমালোচকদের প্রশ্ন ছিল। পার্লামেন্টে থাকা অবস্থায় তাকে কখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমনঃ অর্থনৈতিক বা পররাষ্ট্রনীতি ব্যাপারে কথা বলতে দেখা যায়নি। অনেক পন্ডিত মনে করেন তার সেলেব্রিটিসুলভ স্ট্যাটাসের কারণে তিনি ততোধিক জনপ্রিয় আর এ কারণে হয়তো আরো অভিজ্ঞ ও পটু নেতৃত্ব থেকে কানাডা বঞ্চিত হতে পারে।

২০১৫ ফেডারেল নির্বাচনঃ ২০১৫ সালের ১৯ শে অক্টোবর শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারণার পর জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বে লিবারেল পার্টি ফেডারেল নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ৩৩৮ টি আসনের মাঝে ১৮৪ টি আসন লিবারেল পার্টি অধিকার করে। যা পূর্বের ২০১১ সালের নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীঃ গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনসন জাস্টিন ট্রুডো ও তার কেবিনেটের অন্যান্য সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ৩রা ডিসেম্বর ২০১৫ তে সরকার গঠন করেই জাস্টিন ট্রুডো জানান তার প্রথম উদ্যোগ হবে মধ্যবিত্তদের জন্য রাজস্বের হার কমানো এবং ধনীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করা। তিনি কানাডার আদিবাসীদের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন এবং একটি স্বচ্ছ, নীতিবান সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।

ব্যক্তিগত জীবনঃ জাস্টিন ট্রুডো তার ছোটভাই মাইকেলের সহপাঠিনী ও বান্ধবী সোফি গ্রেগরের সাথে ২০০৫ সালের ২৮ শে মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ বাচ্চার জনক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত