deshbangla71news.com
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্দ্বীপ জেলা কেন চাই? পর্ব-২


১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দের মানচিত্রে দেখা যায় নদীর ভাঙনে হাতিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্দ্বীপ পরগণা হাতিয়া ও সন্দ্বীপ দুইটি থানা থেকে পৃথক উপজেলায় উন্নীত হয়েছে।

১৮৬৮ সনে সন্দ্বীপ নোয়াখালী জেলার অধীনে চলে যায় এবং ১৯৫৪ সনে ৬৪ মৌজা নিয়ে আবার চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।

নদীর ভাঙনে অনেক এলাকা হারিয়ে একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে।১৯৭০ পরবর্তীতে সন্দ্বীপ থেকে কয়েকটি মৌজা বিলীন হয়ে পুনরায় উড়িরচর জেগে উঠে এবং একটি ইউনিয়ন ভুক্ত হয়। তারপর আরও নদীর ভাঙনে সন্দ্বীপের পশ্চিমে জাহাজের চর বা বর্তমান স্বর্ণদ্বীপ, এবং দক্ষিণ পশ্চিমে ন্যায়মস্তির স্থলে ভাসান চর জেগে উঠে অর্থাৎ সন্দ্বীপ উপজেলা তিনটি দ্বীপে বিভক্ত হয়ে গেছে।

যে পরিমাণ এলাকা জেগে উঠেছে এবং লোকালয় সৃষ্টি হয়েছে এগুলোর প্রশাসনিক কার্যকলাপ সরেজমিনে প্রত্যক্ষ ও পরিচালনা , উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ- মহামারী মোকাবিলার জন্য ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক কারণে একটি পৃথক জেলায় পরিণত করা প্রয়োজন মনে করি।

সন্দ্বীপকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সফল রাষ্ট্রপ্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

১৯৬৬ সন থেকে বঙ্গবন্ধুর সন্দ্বীপে আগমনের পর হতে ক্রস বাঁধ ও দ্বীপ জেলা চাই স্লোগান সন্দ্বীপের মানুষ শুনে এসেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক একটি আয়ের খাত রেমিট্যান্স। এইখানেই বসবাস বেশিরভাগ রেমিট্যান্স যোদ্ধার।

স্বদেশী আন্দোলন, দেশ বিভাগ, ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর
৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন এবং ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধে সন্দ্বীপের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে মেহেরপুর জেলা ও দ্বীপ জেলা ভোলার কথা উল্লেখ করা যাক ।

মেহেরপুর জেলার আয়তন ৭১৬.০৮ বর্গ কিলোমিটার।
সন্দ্বীপ উপজেলার আয়তন ৭৬২.৪২ বর্গ কিলোমিটার।

মেহেরপুর জেলার শিক্ষার হার ৩৭.৮%
সন্দ্বীপ উপজেলার শিক্ষার হার ৫১.৫%

মেহেরপুর জেলার রেমিট্যান্স ০.৫৯%
সন্দ্বীপ উপজেলার রেমিট্যান্স ১১% এর অধিক।

মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা: গাংনী, মেহেরপুর ও মুজিবনগর

সন্দ্বীপ উপজেলার স্বর্ণদ্বীপ, উড়িরচর দ্বীপ এবং সন্দ্বীপসহ একটি দ্বীপ জেলা ঘোষণা করার আবেদন আমরাতো করতেই পারি।

বরিশালের ভোলা একটি দ্বীপ থানা ছিলো। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও উদ্যোক্তা জেগে উঠেছিলো বলে আজ ভোলা একটি ছোট্ট জেলায় পরিণত হয়েছে এবং জেলা হিসাবে সকল সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসতেছে।

ভোলা জেলা হিসেবে অর্থনৈতিক অবদান আমাদের সন্দ্বীপ উপজেলার চেয়ে কম।

কারণ সরকারি হিসেবে দেশের অর্থনীতির ১১’/. এর বেশি রেমিট্যান্স যোগ হয় আমাদের এ সন্দ্বীপ থেকেই। যা বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস।

তাই, আমাদের দাবী সন্দ্বীপ কে স্বর্ণদ্বীপ, উড়িরচর দ্বীপ এবং সন্দ্বীপসহ একটি দ্বীপ জেলা ঘোষণা করা হোক।

-ড. সালেহা কাদের


Related posts

কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিলেই চির বিদায় স্বপনের

Kazi MD Sazzad Hasan

জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে কি

Kazi MD Sazzad Hasan