1. faolimited01753@gmail.com : Fao Limited : Fao Limited
  2. admin@deshbangla71news.com : deshbangla71news.com :
  3. artaimoon@gmail.com : AR Taimoon : AR Taimoon
  4. kazimdsazzadhasan@gmail.com : Kazi MD Sazzad Hasan : Kazi MD Sazzad Hasan
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন

১৩১ টি উপজেলায় নেই কোন আদালত, ভোগান্তিতে জনগণ

মারুপ আল হাসান
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

দেশে উপজেলা আছে ৪৯২ টি অথচ সহকারি ও সিনিয়র সহকারি জজ এর পদ আছে ৩৬১ টি!!!!!

তার অর্থ হচ্ছে ১৩১ টি উপজেলায় দেওয়ানি মামলা বিচারের জন্য কোন আদালতই নাই। তার উপর সিভিল কোর্ট এক্ট সংশোধনের কারনে দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার বাড়ানোর কারনে প্রায় সব মামলা ই এই ৩৬১ আদালতে চলে যাবে। যদি পনের লক্ষ মামলা ও ধরি তাহলে প্রতি আদালতে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১৫৫ টি। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থা চলছে তাতে একজন বিচারক অনেক পরিশ্রম করে যদি মাসে ২০ টি করেও মামলা নিস্পত্তি করে ( যেটা বর্তমান কাঠামোতে ভীষন কঠিন ও অসম্ভব) তবে পেন্ডিং মামলাগুলো নিস্পত্তি করতে সময় লাগবে ১৭ বছর।৷ আর ১৭ বছর ধরে নতুন মামলা যোগ হবে কত? তখন অবস্থাটা কী হবে ভাবা যায়? তখন জনগণের আর বিচার চাওয়ার স্বাদ জাগবেনা। তারা অবিচারে নিষ্পেষিত হলেও যাওয়ার পথ থাকবেনা। ফলে এখনই চিন্তা ভাবনা শুরু করা দরকার কীভাবে বিচার বিভাগ এটা মোকাবেলা করবে। আসলে এখনই বিচার বিভাগকে সক্ষম করে তোলার বিকল্প নেই। আপাতত তাই নিন্মোক্ত ব্যাবস্থাদি গ্রহন করা জরুরী।

১) সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতি উপজেলার জন্য অন্তত একটি সহকারী / সিনিয়র সহকারী জজ কোর্ট নিশ্চিত করা জরুরী।
২) সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজদের স্টেনো দিতে হবে। ( ম্যাজিস্ট্রেটদের সকলের স্টেনো আছে। সম পদের বরং অপেক্ষাকৃত বেশী জটিল বিষয়ের বিচারক হয়েও সহকারী জজদের কোন স্টেনো নেই। এটা সহকারী জজদের প্রতি অবিচার)
৩) দেওয়ানী কার্যবিধিতে ইনকুইজিটরি সিস্টেম বাড়াতে হবে।
৪) আরজির সাথে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান সিস্টেম চালু করতে হবে ( জবানবন্দির দরকার হবেনা কেবল জেরার জন্য কোর্টের সময় ব্যয় হবে, আদালতের সময় বাঁচবে, কাজের গতি আসবে।)
৫) আপীল কোর্ট থেকে কোন মামলা ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে পাঠানোর আইন বাতিল করে রিমান্ড নিষিদ্ধ করতে হবে। আপীল যেহেতু মামলার কন্টিনিউয়েশন তাই আপীল কোর্ট সাক্ষ্য নিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করলে বেআইনী হবেনা।
৬) ভার্চুয়াল হিয়ারিং এর আইন কার্যকর করার জন্য দ্রুত বিধি করতে হবে ( এটি সুপ্রিম কোর্টের কাজ।)
৭)ভার্চুয়াল হিয়ারিং এর জন্য আদালতকে ডিজিটালি সক্ষম করে তুলতে হবে।
৮)আইনের ছাত্রদেরকে কোর্টে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ দিতে হবে, তারা বিচারকের রিসার্স অফিসার / ল ক্লার্ক হিসেবে কাজ করবে)
৯) প্রত্যেক বিচারক মাসে ১০০/১৫০ টা করে মামলা নিস্পত্তি করতে পারে এমন সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।এ লক্ষ্যে পদ্ধতির সংস্কার, আইনী সংশোধন লোকবল বাড়ানো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ সব কিছুর জন্য এখনই ঝাপিয়ে পড়তে হবে।অন্যথায় বিনাদোষে বিচার বিভাগকে মানুষের গালাগাল খেতে হবে।

বিচার নিষ্পত্তি দ্রুত করা গেলে আদালতের উপর মানুষের আস্থা বাড়বে। আদালতে মামলাযোগ্য এমন অনেক বিরোধ এখনও পর্যন্ত মানুষ আদালতে না এনে স্থানীয় বড়ভাইদের মাধ্যমে সমাধান করতে চায়। এতে তাদের আর্থিক ব্যায় বেশী হলেও তারা এটাকেই বেশী পছন্দ করতেই পারে যদি আদালতে এসে তার টাকা, সময় ও শ্রমঘন্টা অপেক্ষাকৃত বেশী ব্যায় হবে মনে করে। মামলার রায় বিলম্বে পাওয়া আর একটি ফলকে আগুনে পুড়ে কয়লা বানিয়ে নেয়ার মধ্যে কোন তফাৎ নেই। তাই আমি মনে করি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারলে আইন পেশার প্রতিও মানুষের আস্থা ও সম্মান বাড়বে। আইন অঙ্গনের লোকজনও উপকৃত হবেন।
ডীন স্যার বলতেন মামলা জিতা মানে হারা, আর মামলা হারা মানে মরা। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরনের পথ বিচারক, আইনজীবী সকলকেই খুঁজতে হবে।

Naeem Morshed
Chief Judicial Magistrate

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত