deshbangla71news.com
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাদের সন্দ্বীপ পর্ব-৩


সন্দ্বীপ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। সুপ্রাচীনকাল থেকে সন্দ্বীপের ইতিহাস ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি অন্য জনপদ থেকে আলাদা এবং সমৃদ্ধ। প্রাকৃতিক রূপ সৌন্দর্য এখানে যেকোন ভ্রমণপিয়াসী মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকলেও অবহেলিত জনপদের তকমা ছিল কিছুদিন আগেও। এই কালিমা থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সন্দ্বীপে উন্নয়নের হাওয়া লেগেছে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পাল্টে যেতে থাকে সন্দ্বীপ। উন্নয়ন, অবকাঠামোর অনন্য নজির স্থাপন করেছে সন্দ্বীপ। সব থেকে বড় উপহার হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করেছেন।

২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন গণভবন থেকে। এসময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে সন্দ্বীপ আসার সফরের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছিলেন।

সন্দ্বীপবাসীর যাতায়াতের ভোগান্তি নিরসনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্দ্বীপের মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘সন্দ্বীপকে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই জনপদে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।

এসময় তিনি সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সন্দ্বীপে তো স্কুল-কলেজ আছে, এখানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নাও।”

সাংসদ বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-আপনি সহযোগিতা করলে আমরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার শাহজাহান বি.এ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান, চট্টগ্রামের সঙ্গে সন্দ্বীপের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে দেওয়ার জন্য।

সন্দ্বীপবাসীর এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যদি মাটিতে ব্রিজ ধারণ ক্ষমতা থাকে, সেই সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ-চট্টগ্রামের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে।

এ সময় সন্দ্বীপ সম্পর্কে আবেগ তাড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্দ্বীপে আমি বহুবার গিয়েছি। ১৯৮৫ সালে গেলাম, ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মানুষদের দেখতে গেলাম। তখন জলোচ্ছ্বাসে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো পুরো সন্দ্বীপ। কোন খাবার ছিলো না। লবণাক্ত হয়ে সব নষ্ট হয়ে গেছে। ওই সময় নারকেল কোড়া, পান্তা ভাতের সঙ্গে শুকনো পোড়া মরিচ খেয়ে মাছের ট্রলারে করে উড়িরচরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। আবারও যাওয়া হবে সন্দ্বীপ। ওই নারকেল, পান্তা ভাত আর শুকনো পোড়া মরিচ রাখবেন। তিনি হাসি মুখে বলেন, এই খাবারের কথা মনে রাখবেন।”

এই প্রসঙ্গে একটি স্মৃতি কথা মনে পরছে। ২০১৮ সালে সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা ভাই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর ওনাকে ফুলেল অভিনন্দন জানতে গিয়েছিলাম ওনার অফিসে। সঙ্গে ছিল আমার নাতনি আমরোজিয়া আফসিন। কথা প্রসঙ্গে সে আমাদের এমপি মহোদয়কে বলেছিলেন, সন্দ্বীপে একটি ব্রিজ এবং একটি ইউনিভার্সিটি করে দেন। এই ছোট মানুষের কথায় এমপি মহোদয় চমকে গেলেন। ওকে অভিনন্দন জানালেন। বললেন, ‘‘তোমার কথা সংসদে বলবো।‘‘ কিন্তু বলার আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর কিছুদিন পর জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের উদ্বোধনের দিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে ফেললেন। সেদিন ওনার কথা শুনেই বিস্মিত হয়েছিলাম। একটা ছোট শিশুর স্বপ্ন যেন বাস্তবায়িত হল। এই আনন্দে উদ্ভেলিত হয়েছিলাম। এখন সময় এসেছে ব্রিজের দাবিকে সামনে নিয়ে আসার।

কেননা দেশে এখন অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। একদিন কুচক্রী মহল বলেছিল এদেশে পদ্মা সেতু করা সম্ভব নয়। আরও কত কি বলেছিল? কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেটাকে সম্ভব করেছেন। এতে সাফল্যের আরেক ধাপে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। সন্দ্বীপে ব্রিজ এর দাবি অমূলক নয়। কেননা, সরকার সন্দ্বীপকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পর্যটনে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের চেহারা পরিবর্তন হবে সেই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপে আসবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। তখন এই ব্রিজ কেন করার দাবি তুলেছি সেসময় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে আরও।

ইতোমধ্যে আমি সন্দ্বীপকে জেলা চাই দাবি করে পোস্ট করেছি। সেই লক্ষে আমি যথাযথ যুক্তি উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। পক্ষে- বিপক্ষে অনেকে লিখছেন। আমি কিন্তু স্বপ্ন দেখছি সন্দ্বীপ একদিন অবহেলার সকল গ্লানি মুছে আলাদা জেলা হবে। কারণ আমাদের সন্দ্বীপের মানুষ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। এর পুরুস্কার হিসেবে সরকার আরও কিছু বিষয় ভাবতে পারেন। কেননা এখানে নোয়াখালীর সঙ্গে সিমানা বিরোধ রয়েছে। সন্দ্বীপের আশ পাশে জেগে উঠা দ্বীপ ভাসান চর, স্বর্ণদ্বীপ সন্দ্বীপের সাবেক ইউনিয়ন হলেও এর মালিকানা হারিয়েছে সন্দ্বীপ। এসব দ্বীপে সরকার নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন সেটাকে সাধুবাদ জানাই।কিন্তু স্যাটেলাইট জরিপের মাধ্যমে সন্দ্বীপের সিমানায় ঘোষণার দাবি করছি আবারও। পৃথিবী যতদিন থাকবে সংকট ততদিন চলমান। এই সংকটের ভেতরে সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করতে হবে। বড় স্বপ্ন দেখে সন্দ্বীপের সমস্যাগুলো নিরসন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত একজন মানুষ। তিনি জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে যে কোন জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকেন। এত ব্যস্ততার ভিড়ে সবকিছু নখদর্পণে রাখতে হয় তাঁকে। এতো কিছু কীভাবে সামলে রেখে সামনে চলেন সেটা আমি ভেবে অবাক হই। দেশের হাজার সংকটের মধ্যেও তিনি স্মিত হেসে সম্ভাবনার বীজবপন করেন। ওনার আন্তরিক প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বোধহয় ব্রিজ করার ব্যাপারে ওনার শরণাপন্ন হতে পারি। একই সঙ্গে সন্দ্বীপের যাতায়াত যে সমস্যাগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষকে ভোগান্তি পোহাচ্ছে তাঁর টেকসই সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। ইতোমধ্যে গুপ্তছড়া ঘাটে নতুন দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটির উদ্বোধন করা হয়েছে।

এখন মানুষজন সরাসরি কাঁদা না মাড়িয়ে স্পিড বোটে উঠতে পারছেন। এটা আনন্দের খবর। কিন্তু বর্ষাকালে যখন আবহাওয়া খারাপ থাকে তখন ভালো জাহাজের প্রয়োজন। যদিও একটি জাহাজ এই রুটে যুক্ত করার কথা রয়েছে। কিন্তু আর কতদিন অপেক্ষা করবে মানুষ। আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দুটো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সর্বশেষে মাদকমুক্ত সন্দ্বীপ চাই । সবার কাছে আবেদন মাদকের থাবা থেকে সন্দ্বীপকে রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার। এ বিষয়ে পরে লিখবো ।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন ।

ড. সালেহা কাদের


Related posts

বিএসএফের কারনে মসজিদ সংস্কারের কাজ বন্ধ

Kazi MD Sazzad Hasan

বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফির রেকর্ড এখনো কেউ ভাংতে পারেন নি

Kazi MD Sazzad Hasan

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নেপালের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

Kazi MD Sazzad Hasan