1. faolimited01753@gmail.com : Fao Limited : Fao Limited
  2. admin@deshbangla71news.com : deshbangla71news.com :
  3. artaimoon@gmail.com : AR Taimoon : AR Taimoon
  4. kazimdsazzadhasan@gmail.com : Kazi MD Sazzad Hasan : Kazi MD Sazzad Hasan
  5. partspermillion01@gmail.com : MD Rakib : MD Rakib
"মেরি কুরির ডায়েরি: ছুঁয়ে দেখতে হলে নিতে হবে প্রাণনাশের ঝুঁকি!!" - deshbangla71news.com
বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

“মেরি কুরির ডায়েরি: ছুঁয়ে দেখতে হলে নিতে হবে প্রাণনাশের ঝুঁকি!!”

ওমর ফারুক মিহান
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

▪মেরি কুরি পরিচিত ‘মাদার অফ মডার্ন ফিজিক্স’ নামে। অসম্ভব মেধাবী এই মানুষটি পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী যার অর্জনের তালিকায় রয়েছে দুই-দুইটি নোবেল পুরষ্কার। প্রথমবার যৌথভাবে নোবেল পান, ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায়, দ্বিতীয়বার ১৯১১ সালে পান রসায়নে।

মেরি কুরি সর্বাধিক পরিচিত তেজস্ক্রিয় মৌল নিয়ে কাজ করার সুবাদে। তার আবিষ্কারের মধ্যে পলোনিয়াম ও পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পৃথকীকরণ উল্লেখযোগ্য। এই আবিষ্কারগুলো তাকে সম্মানের উচ্চাসনে পৌঁছে দিয়েছিল সত্য, তবে শেষটায় ঘাতক হয়েছিল কি না সেই আবিষ্কারগুলোই!

▪মেরি কুরির আবিষ্কৃত পলোনিয়াম মৌলটিই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল তার। তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে খুব একটা সতর্কতা মানার অভ্যাস তার ছিল না। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ লেগে থাকা টেস্টটিউব পকেটে নিয়ে চলাফেরা করতেন। এগুলো সংরক্ষণে ডেস্কের ড্রয়ার ব্যবহার করতেন। এভাবে প্রতিনিয়ত কোনো সতর্কতা ছাড়াই তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করার কারণেই আক্রান্ত হন ‘অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়া’ নামের এক ভয়ঙ্কর ব্যাধিতে। এই রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ ঘটায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

▪মেরি কুরি ও তার স্বামী পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে পলোনিয়াম আবিষ্কার করেন। এরপরই তিনি অ্যাপলাস্টিক অ্যানিমিয়াতে আক্রান্ত হতে থাকেন। যদিও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার এই আবিষ্কার তাকে প্রতিদিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তবুও তিনি গবেষণার কাজে কোনো অবহেলা করেননি। বরং স্বাভাবিকভাবেই গবেষণার চালিয়ে গেছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির শেষটা হয় ১৯৩৪ সালে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

▪মৃত্যুর পর তার ব্যবহার্য সব কিছু ফ্রান্সের একটি মিউজিয়ামে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। তার ব্যবহৃত সব কিছু ছিল অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। এমনকি মৃত্যুর পর তার দেহ থেকে যেন তেজস্ক্রিয়তা ছড়াতে না পারে সেজন্য তার কফিনটি ১ ইঞ্চি সীসা দিয়ে আবৃত করে দেওয়া হয়!

▪মহান এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুর পরও তার প্রতি জ্ঞানপিপাসুদের আগ্রহ কমেনি। এখন পর্যন্ত অনেকেই তার ডায়েরি, গবেষণার কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণা করেন। কিন্তু এসব যদি কেউ দেখতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিতে হয়। যদিও তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তার বিশেষ পোশাক পরে তবেই মেরি কুরির জিনিসপত্রে হাত দেওয়ার অনুমতি মেলে। আগামী ১,৫০০ বছর পর্যন্ত বিশেষ পদ্ধতিতেই মেরি কুরির ডায়েরিসহ বাকি সব কিছু সংরক্ষণ করা হবে। ধরে নেওয়া হয়, ১৫০০ বছর পর হয়তো তার জিনিসপত্রে তেজস্ক্রিয়তা থাকবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত