deshbangla71news.com
  • Home
  • আরো
  • ১০ দফা দাবীতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলন
আরো

১০ দফা দাবীতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের সংবাদ সম্মেলন


প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ চট্টগ্রাম বন্দরে লোক নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া ও চট্টগ্রাম উন্নয়নে সার্ভিস চার্জ প্রদানসহ ১০দফা দাবীতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম কতর্ৃক ২১শে মার্চ বেলা ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন। সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ- ফোরামের উপদেষ্টা মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রোটারিয়ান ইলিয়াস। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- লায়ন নজরুল ইসলাম তালুকদার, হাসিনা জাফর, লায়লা বেগম, মো: ফোরকান, সালামত আলী, ডা: শেখ জাহেদ, আকরাম হোসেন, আশীষ চৌধুরী, কানিজ ফাতেমা, মো: ইমতিয়াজ, মো: রানা, ছবুর খান, মহসিন চৌধুরী প্রমুখ। সম্মেলনে চট্টগ্রাম উন্নয়নের বৃহত্তর স্বার্থে ১০ দফা দাবী প্রস্তাবনা আকারে উপস্থাপন করা হয়-
১. (ক) চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে মেগা প্রকল্পের কাজ আগামী ২ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং জনগণকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। (খ) এই সাথে – ১৯৯৩-৯৭ সালে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক ঋণ সহায়তায় পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচে নির্মিত আগ্রাবাদের আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং পঁচিশ ফুট প্রস্থ শেখ মুজিব রোড বক্স কালভার্ট (পাকা বড় ড্রেন ) যেটি বর্তমানে নির্মাণ করতে ১০০০ কোটি টাকার বেশি লাগবে এবং এটি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশন কতৃক অবহেলা ও সংস্কার না করার কারণে এটি ভরাট হয়ে আছে এবং সংলগ্ন এলাকায় সমস্যা প্রকট হয়েছে, এর জরুরি সংস্কার করতে এবং কালভার্টটি সচল করা । ( গ ) ১৯৯৫ সালের সংশোধিত মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বিকল্প খাল অবিলম্বে নির্মাণ করা । উল্লেখ থাকে যে, বিগত ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে এর কাজ শুরু করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা দিয়েছিল । ( ঘ ) সকল নালা- খাল- উপখাল নিয়মিত সংস্কার ও পরিষ্কার করা এবং এতে সরাসরি আবর্জনা ও পলিথিন বেগ নিক্ষেপকারীদর আদালতে নোটিশ দিয়ে বা স্পটে জরিমানার ব্যবস্থা করা। ২. কর্ণফুলীর কালুরঘাটের নতুন সেতু নির্মাণের কাজ আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শুরু করা। এটি অবশ্যই আধুনিক মানের টেকসই দ্বিমুখী ডাবল সড়ক এবং রেলপথ যুক্ত হতে হবে। ৩. চট্টগ্রাম মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাব ওয়ে অথবা ফুটব্রিজ নির্মাণ করা । ৪. সিটি কপোরেশন এর হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যাবস্থার আমূল সংস্কার করে নগরবাসীদের অযথা হয়রানি করা ও অযোক্তিক ট্যাক্স বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকা । ৫. নিয়মিত মশা নিধনের জন্য সম্পূর্ণ একটি পৃথক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নগরীতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে । এর অংশ হিসেবে নিয়মিত গবেষণা ও উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিশেষ টীম নিয়োগ করে তাদের রিপোটের্র উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনমতো প্রতিটি বাড়ি ঘরের আশপাশে ঔষধ ছিটাতে হবে । এছাড়া প্রতিটি নালা-নর্দমা ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার করা । এ বিষয়ে উপজিলা পর্যায়েও এ ধরণের ব্যবস্থা নিতে হবে । ৬. পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে – ( ক ) অতিরিক্ত ধুয়া সৃষ্টিকারী ও পরিবেশ দূষণে সক্ষম সকল যানবাহন ও শিল্প কারখানার লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা ও অন্যান্য সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে (খ) মহানগরীর আবাসিক ও বাণিজ্যিক বজর্যকে রি- সাইক্লিং করে সার ও জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প সিটি কর্পোরেশন এর মাধ্যমে নিতে হবে । (গ) নগরীতে এবং পর্যায়ক্রমে গ্রামে আধুনিক সুয়ারেজ ব্যবস্থার চালু করে সকল নদী, খাল ও উপখালকে দূষণ থেকে রক্ষা করে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা । (ঘ ) নগরীতে এবং উপজিলা হেডকোয়ার্টার এলাকায় বৈদ্যুতিক তারগুলিকে খুঁটি থেকে সরিয়ে নিরাপদ পদ্ধতিতে মাটির নিচে স্থাপন করা । ( ঙ ) নগরীতে এবং জিলার ওয়ার্ড ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট স্থানে সরকার, জিলা পরিষদ ও সিটি কপোরেশন এর উদ্যোগে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষন করা যাতে অত্যন্ত কম ফি দিয়ে জনসাধারণ উপকৃত হয় । ৭. চিকিৎসা ব্যাবস্থার উন্নয়ন কল্পে – (ক) চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকারী উদ্যোগে অন্তত দুইটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের কমপক্ষে ১৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা। এছাড়া দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রামে দুইটি ৭০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা । এগুলোতে এমারজেন্সি, শিশু, গাইনী, ক্যান্সার, হার্ট, মানসিক, প্রতিবন্ধী, চক্ষু, ইত্যাদি চিকিৎসার ওয়ার্ড থাকতে হবে। এবং হাসপাতাল আধুনিক মানের হতে হবে। (খ) নগরীর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালকে সম্পূর্ণ সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা এবং শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হবে (গ) সকল উপজিলা ও এলাকায় সরকারি ও সিটি কর্পোরেশন এর হেলথ কমপ্লেক্স ও সেন্টারগুলিকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করে রুগী শয্যা, চিকৎসক ও নাসের্র সংখ্যা বাড়াতে হবে । (ঘ) জিলা ও নগরীর সকল সরকারি ও আধা সরকারি এম্বুলেন্সের জন্য একটি পৃথক ব্যাবস্থাপনার সৃষ্টি করে এর অধীনে সমন্বিত সার্ভিস পদ্ধতি থাকতে হবে এবং প্রতিটি এম্বুলেন্সের সাথে একজন করে ট্রেনিংপ্রাপ্ত পেরামেডিক্স স্বাস্থ্য কর্মী থাকতে হবে যাতে করে রুগীকে তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারেন। ৮. চট্টগ্রামের শিক্ষা খাতে উন্নয়নের জন্য – (ক) চট্টগ্রামে অন্তত ২ টি পূর্ণাঙ্গ নতুন এবং আন্তর্জাতিক মানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যাতে চিকিৎসা, কারিগরি ও প্রকৌশল ফাকাল্টিস ইত্যাদি থাকবে । (খ) চট্টগ্রামের কমার্স কলেজ, সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, পলিটেকনিক.মহসিন কলেজ সহ সকল সরকারি কলেজ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাই স্কুলগুলির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা, ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি করা । (গ) চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের সরকারি নার্সিং ও পেরা মেডিক্স কলেজ প্রতিষ্ঠা করা । ৯. চট্টগ্রাম বন্দর, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ইপিজেড, নৌ ও বিমান বাহিনী ইত্যাদির প্রতিষ্ঠা ও সম্প্রসারণের জন্য অগণিত স্থানীয়দের ভূমি ও বাড়ি ইত্যাদি হুকুম দখল করা হয়েছে । পৃথিবীর উন্নত দেশেও এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়া হয় এবং এটি কোনো আঞ্চলিকতা নয় ।‎ এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক শূন্য পদ রয়েছে এবং এগুলিকে অযথা শূন্য না রেখে স্থানীয় বা তদসংলগ্ন চট্টগ্রামবাসীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা । ১০. চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যুব সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষার জন্য – (ক) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে, থানায়, শহরে এবং জেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ভিত্তিক শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে প্রশাসন পুলিশ এবং স্থানীয় জনসাধারণের একটি কমিটি গঠন করা দরকার যাতে মাদক-নেশাগ্রস্থতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক অন্যায় ও সন্ত্রাস -জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি, প্রবাসীদের উপর হয়রানি এমনকি ঘুষ-দুর্নীতির প্রতিরোধের জন্য সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গুলোর ভুমিকা রাখার সুযোগ দিতে হবে । (খ) চট্টগ্রামে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিনোদনের সুযোগ সুবিধা অনেক কম বললেই চলে। এই লক্ষ্যে যথাযথ সরকরি পরিকল্পনা ও কর্মকান্ড পরিচালনা করা। বিশেষ করে সরকারি উদ্যোগে আরো কয়েকটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম শহরের বাহিরেও স্টেডিয়াম নির্মাণ ইত্যাদি প্রদক্ষেপ নিতে হবে। দশ দফা দাবী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারক প্রদান, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দলের সাথে মতবিনিময়, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে জনমত গঠনমূলক সভা, মানববন্ধনসহ নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করা হবে।


Related posts

আবুল খায়ের গ্রুপে চাকরির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

না ফেরার দেশে মওদুদ আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজিবি নাকি বিডিআর?

নিজস্ব প্রতিবেদক